তারাগঞ্জে বিদ্যুৎ বিলে বিশৃঙ্খলা

গাফিলতিতে অন্যের বিল শোধ, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক
টুইট ডেস্ক: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিল বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের গাফিলতির কারণে একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অন্যজনের হাতে পৌঁছানোর ঘটনা ঘটছে, ফলে অনেকে নিজের অজান্তেই অন্যের বকেয়া বিল পরিশোধ করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
উপজেলার ডাংগীরহাট বাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিল বিতরণে ন্যূনতম যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত না করেই বিল হস্তান্তর করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দোকান বা বাড়ির দরজায় বিল ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, একই এলাকার দুই গ্রাহক—মো. আফজারুল হক (পিতা: মৃত নছিমুদ্দিন) এবং মো. আফজারুল হক (পিতা: মৃত হেজাব উদ্দিন)—এর নামের সাদৃশ্যকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মী কোনো সতর্কতা ছাড়াই একজনের বিল অন্যজনের কাছে দিয়ে দেন। এতে এক গ্রাহক নিজের বিল মনে করে অন্যজনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া বিল পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে রসিদ যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
প্রতিনিধির হাতে আসা বিলের কপি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নামের মিল থাকলেও পিতার নাম ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে সহজেই এ ধরনের বিভ্রাট এড়ানো সম্ভব ছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, বিল বিতরণে নিয়োজিত কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে সাধারণ মানুষকে অযাচিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিল বুঝিয়ে না দিয়ে ফেলে রেখে যাওয়ার ফলে গ্রাহকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক শরীফ লেহাজ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিল হাতে পাওয়ার পর গ্রাহকের উচিত মিটার নম্বর ও হিসাব নম্বর মিলিয়ে দেখা।”
তবে মাঠপর্যায়ের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিল বিতরণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে। গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি জোরদার করা জরুরি।






