বিশ্বকাপে ইরানকে শর্তে বেঁধে দিল যুক্তরাষ্ট্র

আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট কেউ দলে থাকলে প্রবেশ নিষেধ, কূটনৈতিক টানাপোড়েনে নতুন জটিলতা।
টুইট ডেস্ক: আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে ইরান। খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে সরাসরি আপত্তি না থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে, যা পুরো টুর্নামেন্টকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ফুটবলাররা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে। তবে দলের সঙ্গে এমন কোনো ব্যক্তি,কোচ, কর্মকর্তা কিংবা সাংবাদিক,যুক্ত থাকতে পারবে না, যাদের সঙ্গে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমনকি কেউ ভিন্ন পরিচয়ে এলেও তার অতীত সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খেলোয়াড়দের সরাসরি বাধা দেওয়া হবে না। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
২০২৬ সালের ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে শুরু হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি মহল থেকে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠলেও, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাত এই ইস্যুকে আরও জটিল করেছে। যদিও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটেনি।
সব মিলিয়ে, মাঠের খেলা শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বকাপের মঞ্চে কূটনৈতিক লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ইরানের অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্ন থাকবে কি না,সেই প্রশ্ন এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা।






