ফিজের ফাইফারে রেকর্ড ছোঁয়া

ওয়াসিম-বোল্টের পাশে মুস্তাফিজ, লক্ষ্য এখন স্টার্ককে ছাড়ানো।
টুইট প্রতিবেদক: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে আবারও নিজের শ্রেণি প্রমাণ করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেটের দেখা পেয়ে শুধু ম্যাচই জেতাননি, গড়েছেন নতুন মাইলফলকও। বাঁহাতি এই পেসারের সামনে এখন কেবল একটিই নাম,মিচেল স্টার্ক।
চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ মিস করার পর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দলে ফিরে ৯ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তার কাটার ও ধীরগতির বলের ভেলকিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ।
তার এই পারফরম্যান্সেই ৫৫ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ, নিশ্চিত হয় সিরিজ জয়।
এই ফাইফারটি মুস্তাফিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ। এর মাধ্যমে তিনি ওয়ানডে ইতিহাসে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় উঠে এসেছেন।
এতদিন ৬ বার করে এই কীর্তি ছিল ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্ট–এর দখলে। এবার সেই কাতারে নাম লেখালেন বাংলাদেশের ‘কাটার মাস্টার’।
তবে রেকর্ডের শীর্ষে রয়েছেন স্টার্ক, যার ঝুলিতে আছে ৯টি ফাইফার। বর্তমান ফর্ম ও ধারাবাহিকতা বিবেচনায় মুস্তাফিজের সামনে সেই রেকর্ড স্পর্শ করার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
পরিসংখ্যান বলছে, ওয়াসিম আকরাম ৩৫১ ইনিংসে ৬ বার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। সেখানে মুস্তাফিজ এই কীর্তি গড়েছেন মাত্র ১১৮ ইনিংসে। যদিও বোল্ট আরও কম,১১৪ ইনিংসে এই রেকর্ড স্পর্শ করেন।
তবুও কার্যকারিতা ও ম্যাচ প্রভাবের বিচারে মুস্তাফিজের অবস্থান এখন বিশ্বসেরাদের কাতারেই।
বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ।
সাকিব আল হাসান ও আব্দুর রাজ্জাক যেখানে চারবার করে এই কীর্তি গড়েছেন, সেখানে ফিজ একাই ছয়বার ছুঁয়েছেন পাঁচ উইকেটের মাইলফলক।
সবমিলিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ডটি রয়েছে ওয়াকার ইউনিসের দখলে (১৩ বার)। এছাড়া মুত্তিয়া মুরালিধরন নিয়েছেন ১০ বার, আর স্টার্ক, ব্রেট লি ও শহীদ আফ্রিদি রয়েছেন ৯ বার করে।
বর্তমান অবস্থানে মুস্তাফিজ রয়েছেন সর্বকালের তালিকায় অষ্টম স্থানে। তবে বয়স, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় এই তালিকায় আরও ওপরে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে দিতে মুস্তাফিজ এখন শুধু দলের নির্ভরতার প্রতীক নন, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে এক অনন্য ধারার প্রতিনিধি,যেখানে গতি নয়, বুদ্ধি ও বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।






