প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন মোড়

ফলাফল পুনর্বিবেচনায় কমিটি গঠনের উদ্যোগ, অনিশ্চয়তায় ১৪ হাজারের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী

টুইট প্রতিবেদক: দীর্ঘ দুই মাসের নীরবতা ভেঙে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনায় (রিভিউ) একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্বাচন-পূর্ব সময়ের চাপের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ফল প্রকাশ,সব মিলিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জেলায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষার্থীদের অনিয়মে জড়িত থাকার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এজন্য একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। মোট ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

তবে নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুই মাস পার হলেও তা শুরু হয়নি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীরবতা প্রার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এদিকে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানান, দীর্ঘসূত্রতায় তারা সামাজিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের ৬১ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।

প্রার্থীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাদের অভিযোগ, সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সনদ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকা অযৌক্তিক।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ একদিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে অন্যদিকে ইতোমধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়াতে পারে।

ফলে দ্রুত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তই এখন সময়ের দাবি।