আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় রাজশাহী অথচ স্টেডিয়ামের নামই পড়া যায় না!

ঐতিহাসিক সিরিজে অভিষেক হলেও বহির্ভাগ জরাজীর্ণ; নামফলক পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, প্রশ্নে ইমেজ।
এম বি আলম: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কারণে এখন বিশ্বমিডিয়ায় উঠে আসছে রাজশাহীর নাম। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা নারী দলের সিরিজ ঘিরে দেশের বাইরে বিভিন্ন ক্রীড়া মাধ্যমেও আলোচনায় রয়েছে এই শহর। কিন্তু এমন সময়েই বড় এক বিব্রতকর বাস্তবতা সামনে এসেছে। যে স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই স্টেডিয়ামের নামফলকই স্পষ্টভাবে পড়া যায় না।
ঐতিহাসিক সিরিজে অভিষেক হলেও বহির্ভাগ জরাজীর্ণ; নামফলক পর্যন্ত স্পষ্ট নয়, প্রশ্নে ইমেজ
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান (রাজশাহী বিভাগীয়) স্টেডিয়াম প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিয়ে গঠিত এই সিরিজের ওয়ানডেগুলো ২০, ২২ ও ২৫ এপ্রিল রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে ঘিরে মাঠের ভেতরে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও স্টেডিয়ামের বাইরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ভবনের বহির্ভাগে নেই কোনো রং, দেয়ালের পলেস্তারা চটে উঠে গেছে, বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে সাদা-ধূসর হয়ে পড়েছে পুরো অবকাঠামো। বড় দুটি পর্পল রঙের ব্যানারে ‘Sri Lanka Women’s Team Tour of Bangladesh 2026’ লেখা থাকলেও ভবনের নিজস্ব কোনো স্পষ্ট সাইনবোর্ড চোখে পড়ে না। নিচে একটি পুরনো নীল বোর্ডে অস্পষ্টভাবে “রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা” লেখা থাকলেও অনেক অংশ মুছে গেছে।
স্টেডিয়ামের সামনের দেয়াল ও ফুটপাতের অবস্থাও করুণ। ইট বেরিয়ে আছে, রং নেই, পলেস্তারা খসে পড়েছে। এমন দৃশ্যের মধ্যেই স্থানীয় কয়েকজন সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়, পাশে কিছু যুবক ও শিশু খেলার পোশাকে অবস্থান করছিল।
এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের বাহ্যিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ভেতরের মাঠ ভালো থাকলেই হবে না, বাইরের অবকাঠামোও দেশের ভাবমূর্তির অংশ। বিদেশি খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের কাছে এই চিত্র ভালো বার্তা দেবে না বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনটি অনেক পুরনো হওয়ায় এবং বাজেট সীমিত থাকায় পুরোপুরি সংস্কার সম্ভব হয়নি। ম্যাচ উপলক্ষে কিছু অংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। তবে সরেজমিনে দৃশ্য ভিন্ন চিত্র ।
এদিকে সিরিজ শুরুর আগে দুই দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও চামারি আতাপাত্তু ট্রফি উন্মোচন করেন। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক আতাপাত্তু উইকেট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, রাজশাহীর উইকেট ব্যাটিং-সহায়ক এবং খেলার জন্য অনুকূল।
উল্লেখ্য, এই মাঠটি এতদিন মূলত ঘরোয়া ও বয়সভিত্তিক ম্যাচ আয়োজন করলেও এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল সিলেটে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেবে, যা ২৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বাইরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে রাজশাহীর স্টেডিয়ামের বর্তমান বেহাল চিত্র দ্রুত উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে বড় ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রশাসক রিটনের প্রতি নাগরিকদের প্রত্যাশা: সৌন্দর্যায়ন ও জবাবদিহিতার সমন্বয়
রাজশাহীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন যেমন গৌরবের, তেমনি স্টেডিয়ামের বেহাল বহির্ভাগ নাগরিকদের মনে হতাশাও তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি সুস্পষ্ট ও জোরালো।
নাগরিকদের প্রধান প্রত্যাশা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোর দ্রুত সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন। শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের মতো একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার বহির্ভাগ আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন না হলে তা শুধু স্থানীয়দের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নেতিবাচক বার্তা দেয়। তাই অবিলম্বে রং, মেরামত ও নান্দনিক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।







