ঋষিকেশে গ্রেপ্তার ‘সত্য সাধু’

শাহবাগী ব্লগার থেকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী,সানিউরের রূপান্তর ঘিরে প্রশ্ন?
টুইট ডেস্ক: ভারতে পরিচয় গোপন করে বসবাস করা বাংলাদেশের বিতর্কিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সানিউর রহমান ওরফে ‘সত্য সাধু’ অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য,উপাত্ত উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর সানিউর রহমান নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ পরিচয়ে আত্মগোপন করেন। পরে ঋষিকেশ এলাকায় সাধুর ছদ্মবেশ ধারণ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন এবং স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় নিজেকে মুক্তচিন্তার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তি পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শে অবস্থান নেওয়ায় তার উদ্দেশ্য ও বিশ্বাস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শাহবাগ আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে যেসব ব্লগার ধর্মীয় বিষয়ে তীব্র সমালোচনার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন, সানিউর ছিলেন তাদেরই একজন সক্রিয় মুখ।
ভারতে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সহিংস আচরণের অভিযোগও উঠে আসে। বিশেষ করে গাজিয়াবাদের একটি গির্জায় হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অপারেশন কালনামী’ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ভুয়া পরিচয়ে অবস্থান করতে পারা সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তার নয়; বরং এটি দেখায়,উগ্রবাদ কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে সীমাবদ্ধ নয়।
ব্যক্তি বিশেষে তা ভিন্ন রূপ ধারণ করে সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়াতে পারে।
সানিউরের ঘটনাটি তাই আদর্শিক চরমপন্থার রূপান্তরের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






