রংপুরে ভোট কর্মকর্তাদের ভাতা কর্তন নিয়ে বিতর্ক

পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সমালোচনায় তারাগঞ্জ প্রশাসন

তারাগঞ্জ (রংপুর), প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কর্তন করা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে তারাগঞ্জে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৩টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী ৪৮৮ জন পোলিং অফিসার, ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে কর্তন করা হয়। এতে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে এবং উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শ্রী ঋষিকেশের পরামর্শ অনুযায়ী ইনকাম ট্যাক্স খাতে এ টাকা কর্তন করা হয়েছে।

তবে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ঋষিকেশ এ দাবি অস্বীকার করে জানান, কর্তনকৃত অর্থের বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং তাঁর পরামর্শে কোনো অর্থ কর্তন করা হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্টদের ইনকাম ট্যাক্স অফিসে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই পুনরায় দাবি করেন, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার পরামর্শেই অর্থ কর্তন করা হয়েছে। দুই কর্মকর্তার এ ধরনের ভিন্নমুখী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন উঠেছে।

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর গত মঙ্গলবার দুপুরে কর্তনকৃত অর্থ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক তারাগঞ্জ শাখায় জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কোন খাতে বা কী উদ্দেশ্যে অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, “টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাংকের রিসিভ নিয়ে যান।” ঘটনাটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রকাশ করা হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।