ভারতীয় ‘রোবট ডগ’ সীমান্তে নজরদারিতে? সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে চাঞ্চল্য

সোনাহাটের সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি, রোবট ডগ সীমান্ত নজরদারি নিয়ে আলোচনা তীব্র।
টুইট প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ল্যান্ড পোর্টসংলগ্ন একটি বাংলাদেশি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৩টা ৩৫ মিনিটে ধারণ করা একটি ফুটেজ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এক্স (পূর্বতন টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ‘ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম (DRF)’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট দাবি করেছে, ফুটেজে দেখা যাওয়া যান্ত্রিক আকৃতির ডিভাইসটি ভারতের ‘রোবট ডগ’, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী নজরদারির কাজে ব্যবহার করে থাকে।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্ত এলাকায় আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্নে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো সরকারি সংস্থা এই নির্দিষ্ট ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
সামরিক সূত্র ও উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চারপেয়ে রোবোটিক প্ল্যাটফর্ম বা ‘মাল্টি-ইউটিলিটি লেগড ইকুইপমেন্ট (MULE)’–ধাঁচের রোবট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এসব রোবট দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচল, লাইভ ভিডিও ট্রান্সমিশন, থার্মাল ইমেজিং এবং বিপজ্জনক পরিবেশে রেকি (reconnaissance) পরিচালনার সক্ষমতা রাখে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সামরিক কুচকাওয়াজ ও প্রযুক্তি প্রদর্শনীতেও এ ধরনের রোবট প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো সীমান্ত নজরদারি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং সিবিআরএন (রাসায়নিক, জৈব, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক) পরিস্থিতিতে ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর বিভিন্ন অংশে নজরদারির জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী Border Security Force (বিএসএফ) ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা ও সেন্সরভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে Border Guard Bangladesh (বিজিবি) সীমান্তে টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করেছে। তবে কোনো পক্ষই এখনো সোনাহাটের কথিত ‘রোবট ডগ’ ফুটেজ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা ছবি অনেক সময় প্রসঙ্গবিহীন কিংবা ভুয়া দাবির অংশ হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজের গুণগত মান, সময়, অবস্থান ও ভৌগোলিক সীমা যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহৃত হলেও আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র পরিচালনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং তা কূটনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও কারিগরি যাচাই ছাড়া ফুটেজের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তায় রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। পরবর্তী আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।






