বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মাদকমুক্ত তিন পার্বত্য জেলা গড়ার আহ্বান; মাতৃস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানির গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রধান অতিথি, কাজুবাদাম চাষে সম্ভাবনার কথা

অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বান্দরবানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবান শহরের প্রেসক্লাব চত্বরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পাহাড়ি ও বাঙালির সম্প্রীতির আবহে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা, পৌরসভা ও উপজেলার যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বান্দরবানের কৃতী সন্তান। বক্তব্যে তিনি মাদকমুক্ত তিন পার্বত্য জেলা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মায়ের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির যত্ন, নিরাপদ পানির গুরুত্ব এবং পার্বত্য অঞ্চলে কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি বলেন, তিন পার্বত্য জেলাকে মাদকমুক্ত করতে হবে। মায়ের প্রতি সম্মান ও যত্নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি ও সুস্থতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলার জন্য কাজুবাদাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দেশ-বিদেশে কাজুবাদাম রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সুযোগ রয়েছে।

মানুষের সেবায় কাজ করার প্রত্যয় যুবদলের

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া যুবদল সব সময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। সংগঠনের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজনীতির পাশাপাশি মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় যুবদল ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা যুবদলের জহির উদ্দিন মাসুম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ওসমান গনি, আব্দুল মাবুদ, মশিউর রহমান মিটুন, মোহাম্মদ আবু বক্কর, হারুন অর রশিদ, আহিদ উদ্দিন মামুন, মোহাম্মদ রেজাউল উদ্দিন চৌধুরী ও শাহাদাত হোসেন জনিসহ জেলা, পৌরসভা এবং সাত উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের যুবদলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এবং পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।