প্যারিসে বিক্ষোভে লুটপাট-ভাঙচুর, সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজপথ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে; দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বাড়ছে অস্থিরতা।

টুইট প্রতিবেদক: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক অ্যাডলিনা ক্যাম্পবেল প্যারিস থেকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিভিন্ন দোকানে হামলা চালানোর পাশাপাশি কাচের বোতল ছুড়ছেন। এতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের বাইরে থেকেও বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী প্যারিসে এসেছেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যেও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্যারিসের রাস্তায় চলাচল করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুটপাটে তরুণদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

সিএনএনের এক সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে অন্তত একটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া একটি বিদ্যুচ্চালিত সাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি সরু সড়কে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একদল লুটপাটকারী একটি খেলনার দোকান থেকে বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বাইরে আসে। পরে সেগুলো খুলে দেখতে থাকে এবং নিজেরাই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কীভাবে সহিংসতা ও লুটপাটে রূপ নিল, তা নিয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।