পুলিশ পরিদর্শক ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

৯২ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে, স্ত্রীর নামেও মিলেছে ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ।

টুইট প্রতিবেদক: অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে ফখরুদ্দীন ভূঞার নামে ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকার এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞাকে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৯০ লাখ ৯১ হাজার ২৬৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিবৃতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে তাঁর নামে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯১১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৬৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫৭ টাকা বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

এই হিসাব অনুযায়ী, তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকা। এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

স্ত্রীর নামেও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

দ্বিতীয় মামলায় ফখরুদ্দীন ভূঞার স্ত্রী জাহানারা খানমকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে ফখরুদ্দীন ভূঞাকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জাহানারা খানমের নামে ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ফখরুদ্দীন ভূঞা নিজের অবৈধ উপার্জন বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থের উৎস আড়াল করার অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।