সন্তানের খোঁজ রাখি তো? তাজমিনের মৃত্যু যে প্রশ্নগুলো রেখে গেল

১৫ বছরের তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে সন্তানদের নিরাপত্তা, দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিতি, পারিবারিক যোগাযোগ ও সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। শাসন নয়, সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বিপদের সংকেত সময়মতো বুঝতে পারাই হোক অভিভাবকদের অঙ্গীকার।

কলাম | বদিউল আলম লিংকন

একটি বার্তা। মাত্র কয়েকটি শব্দ—“বাবা! আমি আটকে আছি, আমাকে নিয়ে যাও!” একটি কিশোরীর এমন আকুতি যে কোনো বাবার হৃদয় বিদীর্ণ করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সেই বার্তা যখন বাবার চোখে পড়ল, ততক্ষণে মেয়েকে উদ্ধারের সুযোগ ফুরিয়ে গেছে।

১৫ বছরের তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা আমাদের সামনে শুধু শোকের নয়, আত্মসমালোচনারও এক কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছে—আমরা কি সত্যিই আমাদের সন্তানদের খোঁজ রাখি?

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে একাধিক স্থানে যাতায়াত করেছিল। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর সামনে আসে। মৃত্যুর আগে বাবার কাছে পাঠানো বিপদের বার্তার বিষয়টি বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে মানুষকে। তবে তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে সে বিপদে পড়েছিল এবং তার মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অনুমানকে সত্য ধরে নেওয়া কিংবা যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সমাধান নয়।

তবু এই ঘটনা আমাদের সামনে কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন রেখে গেছে। একটি কিশোরী কীভাবে পরিবারের অগোচরে দূরবর্তী স্থানে যাতায়াত করল? তার চলাফেরা সম্পর্কে পরিবার কতটা জানত? সে কি কোনো সমস্যার মধ্যে ছিল, যা পরিবারের কাছে প্রকাশ করতে পারেনি? আর বিপদের মুহূর্তে সাহায্য চাওয়ার পরও কেন তাকে সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হলো না? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন—কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য নয়, ভবিষ্যতে এমন বিপদ প্রতিরোধের পথ খুঁজতে।

সন্তান কি শুধু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি আমাদের বিশ্বাসও করবে

আমাদের সমাজে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই দুটি প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে অতিরিক্ত শাসন, অন্যদিকে সন্তানের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে উদাসীনতা। অথচ সন্তানকে নিরাপদ রাখতে এই দুইয়ের কোনোটিই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সচেতনতা, নিয়মিত খোঁজখবর এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক।

একটি শিশু কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কখন ফিরবে—এসব জানা অভিভাবকের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের অর্থ সন্তানকে সারাক্ষণ সন্দেহ করা নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সন্তান নির্ভয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে।

কিশোর বয়সে বন্ধুত্ব, আবেগ, কৌতূহল ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। কখনো ভুল সিদ্ধান্তও নিতে পারে তারা। কোনো অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়, অনলাইন বন্ধুত্ব, ভ্রমণের প্রলোভন কিংবা কারও চাপের মুখে পড়ে বিপদে জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান যেন ভয়ে সত্য গোপন না করে, সে বিষয়ে মা-বাবাকে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে।

সন্তানকে শুধু প্রশ্ন করলেই হবে না, তার কথাও মন দিয়ে শুনতে হবে। তার বন্ধুদের সম্পর্কে জানতে হবে, কিন্তু অপমান বা অযথা সন্দেহের মাধ্যমে নয়। সে কোথাও যেতে চাইলে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে এবং কখন ফিরবে—এ বিষয়ে স্বাভাবিক আলোচনা থাকা দরকার। একই সঙ্গে তাকে বোঝাতে হবে, যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন, বিপদে পড়লে মা-বাবার কাছে ফিরে আসার দরজা সব সময় খোলা।

আট মাস স্কুলে অনুপস্থিতি—কেউ কি খেয়াল করেছিল?
তাজমিনের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় তার দীর্ঘদিন স্কুলে না যাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত তথ্যটি সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তবে সে কেন স্কুলে যাচ্ছিল না, পরিবার বিষয়টি জানত কি না এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর যাচাই করে জানা প্রয়োজন।

একজন শিক্ষার্থী দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে সেটি কেবল পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার বিষয় নয়। এর পেছনে পারিবারিক সমস্যা, মানসিক চাপ, ভয়, হয়রানি কিংবা অন্য কোনো সংকট থাকতে পারে। আবার অনুপস্থিতির কারণ সম্পূর্ণ ভিন্নও হতে পারে। তাই কারণ না জেনে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

এখানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও কম নয়। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা, অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।

একইভাবে অভিভাবকদেরও সন্তানের উপস্থিতি, পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে খোঁজ রাখা উচিত।

একটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে কি না, তার দৈনন্দিন রুটিন ঠিক আছে কি না, হঠাৎ আচরণে পরিবর্তন এসেছে কি না—এসব বিষয়ে নজর রাখা কোনো বাড়তি দায়িত্ব নয়। এটি সন্তানকে নিরাপদ রাখার মৌলিক অংশ।

বিপদের বার্তা বুঝতে হবে, দেরি করা যাবে না

তাজমিনের বাবার কাছে পাঠানো বার্তাটি সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে মানুষকে। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের শুধু আবেগপ্রবণ করলেই চলবে না; বিপদের সংকেত চিনতে শেখাও জরুরি।

কোনো সন্তান হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে, অস্বাভাবিক বার্তা পাঠালে, অবস্থান নিয়ে অসংলগ্ন কথা বললে কিংবা সাহায্য চাইলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে হবে, তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় পুলিশ বা জরুরি সেবার সাহায্য নিতে হবে।

কেউ বিপদে পড়লে সব সময় সরাসরি কথা বলার সুযোগ পায় না। তাই সন্তানকে আগে থেকেই শেখানো দরকার, কীভাবে বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান জানাবে, কীভাবে নিরাপদ জায়গায় যাবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার সাহায্য চাইবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও শান্তভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি থাকা উচিত।

তবে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করাও ঠিক নয়। লাইভ লোকেশন, ফোনকল কিংবা বার্তা সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এগুলো সব সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। প্রয়োজন পারিবারিক যোগাযোগ, সচেতনতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা।

অনলাইন পরিচয় মানেই কি বিশ্বাসযোগ্য মানুষ

বর্তমানে শিশু-কিশোরদের জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সেখানে পরিচিত-অপরিচিত অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। কিন্তু অনলাইনে বন্ধুত্বের পরিচয় দিলেই কেউ নিরাপদ বা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে যায় না।
কেউ উপহার, ভ্রমণ, চাকরি, বন্ধুত্ব কিংবা ভালোবাসার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। আবার বাস্তব জীবনে পরিচিত কারও মাধ্যমেও বিপদ তৈরি হতে পারে। তাই সন্তানদের শুধু অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে, কোন আচরণ বিপদের সংকেত হতে পারে এবং কোনো ব্যক্তি গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাপ দিলে কিংবা পরিবারকে কিছু না জানাতে বললে কেন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ভয় দেখানোর চেয়ে সচেতন করা বেশি কার্যকর। সন্তান যেন জানে, অনলাইনে কোনো অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটলে, কেউ হুমকি দিলে কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে তা লুকিয়ে না রেখে বিশ্বস্ত বড় কাউকে জানাতে পারবে।

দায়িত্ব কি শুধু মা-বাবার

সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই পরিবারের। কিন্তু সব দায় একা মা-বাবার ওপর চাপিয়ে দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে পরিবার, বিদ্যালয়, প্রতিবেশী, পরিবহনব্যবস্থা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সব পক্ষই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।

কোনো শিশু দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব রয়েছে খোঁজ নেওয়ার। কোনো শিশু বিপদে আছে বলে মনে হলে আশপাশের মানুষের দায়িত্ব রয়েছে যথাযথ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার। আর নিখোঁজ হওয়া, অপহরণ, নির্যাতন কিংবা হত্যার মতো অভিযোগ উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায়ও প্রয়োজন প্রতিটি প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা, সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া ন্যায়বিচারের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

সন্তানকে সময় দিন, তার নীরবতাও বুঝতে শিখুন
আমরা অনেক সময় সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, ভালো পোশাক, ভালো খাবার ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু তার মানসিক অবস্থা কেমন, সে কোনো সমস্যায় আছে কি না, কারও আচরণে ভয় পাচ্ছে কি না—এসব প্রশ্ন করার সময় বের করি না।

সন্তান ঘরে ফিরেছে কি না, সেটুকু জানাই যথেষ্ট নয়। সে নিরাপদে আছে কি না, মন খুলে কথা বলতে পারছে কি না, কোনো চাপ বা ভয় তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে কি না—সেটিও জানতে হবে। তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে রাগ না করে কারণ বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটানো, তার কথা মন দিয়ে শোনা, বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তার বন্ধু ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে বয়সোপযোগী ধারণা রাখা—এসব সাধারণ অভ্যাসই নিরাপত্তার শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, সন্তানকে এমন বিশ্বাস দিতে হবে—সে ভুল করলেও, বিপদে পড়লেও কিংবা কোনো সমস্যায় জড়িয়ে গেলেও মা-বাবাকে জানাতে পারবে। কারণ ভয় ও শাস্তির আশঙ্কা অনেক সময় শিশুকে সত্য গোপন করতে বাধ্য করে; আর সেই নীরবতা বিপদকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।

তাজমিনের মৃত্যু যেন কেবল একটি খবর হয়ে না থাকে
তাজমিনের মৃত্যুতে একটি পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কোনো কথায় পূরণ করা সম্ভব নয়। তার মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটিত হোক, দায়ীরা প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আসুক এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাক—এটাই প্রত্যাশা।

কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নিজেদেরও প্রশ্ন করতে হবে

আমরা কি সন্তানের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে যথেষ্ট জানি? তার অনুপস্থিতি, আচরণের পরিবর্তন কিংবা সাহায্য চাওয়ার সংকেতগুলো কি গুরুত্ব দিয়ে দেখি? পরিবার ও বিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে কি? বিপদের সময় সন্তান জানে কি, কোথায় গেলে সে নিরাপদ আশ্রয় পাবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার দায়িত্ব আমাদের সবার।
একটি শিশুর নিরাপত্তা শুধু তালাবদ্ধ দরজা, হাতে থাকা মোবাইল কিংবা কঠোর নজরদারিতে নিশ্চিত হয় না। নিরাপত্তা গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে।

তাজমিনকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু তার মর্মান্তিক মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি আমরা সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হই, বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াই এবং বিপদের সংকেতকে গুরুত্ব দিতে শিখি, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে এমন কোনো শিশুকে সময়মতো সহায়তা করা সম্ভব হবে।

সন্তানের খোঁজ রাখি—শুধু সে কোথায় যাচ্ছে, তা জানার জন্য নয়; সে কেমন আছে, কী ভাবছে এবং বিপদে পড়লে আমাদের কাছে ফিরতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্যও।