আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল ইউনিট সচল, দুপুরে সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিট পুনরায় চালু

টুইট ডেস্ক: ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এটি বন্ধ করতে হয়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও হ্রাস পায়।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। পরে সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। এতে জ্বালানি সংকটে আগে থেকেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামতকাজ শুরু করা হয়। প্রথমদিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা কেন্দ্রটি সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা কেন্দ্র অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বিকল ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি চলমান লোডশেডিং কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।