কিশোর গ্যাং-মাদক-শব্দদূষণ রোধে কঠোর আরএমপি কমিশনার

সড়ক-ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখলে হকার-দোকানদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। রাত ১০টার পর আবাসিক এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশ আরএমপি কমিশনারের।
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হকার ও দোকানদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের সভাকক্ষে এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। পুলিশ কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় থানা এলাকায় চলমান বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নিরসনের বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, সাধারণ জনগণকে দ্রুত, কাঙ্ক্ষিত ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব আচরণ বজায় রাখতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও কার্যকর ও আস্থাভিত্তিক করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, জমি-জমা বা জায়গা-জমি দখলসংক্রান্ত বিরোধে পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের বিরোধের কারণে যাতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ
জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় সভায়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, হকার ও দোকানদারদের কেউ সড়ক বা ফুটপাত দখল করে মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নগরীর মানুষের স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানা ও বিট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দৃশ্যমান টহল বাড়ানোর নির্দেশ
চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে থানা এলাকায় নিয়মিত ও দৃশ্যমান পুলিশি টহল আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় রাত ১০টার পর আবাসিক এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের অপতৎপরতার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ কমিশনার।
একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের জন্য এএসআই পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
বিট পুলিশিংয়ে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর তাগিদ
সভায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ কমিশনার বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ লক্ষ্যে সেবা প্রত্যাশী জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণ, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় থানা পর্যায়ে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অগ্রগতি, মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জনসম্পৃক্ততা এবং পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য ও মতামত নেওয়া হয়। বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।






