নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও কাদাপ্রবাহে ব্যাপক প্রাণহানি; নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক।

বিশ্ব ডেস্ক: নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নেপাল পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, ৫০০-এর বেশি বিদেশি পর্যটক ও কর্মী এবং সেনা, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

ভয়াবহ বন্যায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় সড়ক, সেতু, বাড়িঘর এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির স্রোত ও কাদাপ্রবাহে বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের রোববার সকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের গিয়িরং কাউন্টিতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

এর আগে চীনের তিব্বত অংশে সাতজনের মৃত্যু এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গিয়েছিল।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি আরও ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও শত শত ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ভারতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ শত শত বিদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চলমান থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে।