আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রের কল্যাণ ও জনগণের স্বার্থই হবে একমাত্র লক্ষ্য, বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান

টুইট ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষ থাকবেন। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছেন। এখন তিনি সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ এবং সেই অবস্থান থেকেই দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কারও প্রতি তাঁর কোনো রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

রাষ্ট্রপতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের প্রতি এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য থাকতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপচয় রোধ করতে হবে।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সবাই একই পরিবারের সদস্যের মতো। সুযোগ পেলেই পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি ভবিষ্যতেও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।