হাইতিতে রাতভর সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৪৭

দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক সংকট, সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মুখে ক্যারিবীয় দেশটি
টুইট ডেস্ক: হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলেও বাহিনীর একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেননি।
১৮০৪ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে হাইতি। দেশটি প্রথমে স্পেন এবং পরে ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর স্বাধীনতা অর্জন করে হাইতি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে বিশ্বের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্বাধীন স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
তবে স্বাধীনতার পরও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে দেশটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সশস্ত্র সহিংসতা, বিদেশি আগ্রাসন ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে গেছে।
হাইতির ইতিহাসে পরিবারতান্ত্রিক দুভেলিয়ার শাসন বিশেষভাবে আলোচিত। ফ্রাঁসোয়া দুভেলিয়ার ও পরে তার ছেলে জ্যাঁ-ক্লদ দুভেলিয়ারের দীর্ঘ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে দেশটির জনগণ ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার হন। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সেই সময়ের শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল।
স্বাধীনতার দুই শতাব্দীর বেশি সময় পরও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হাইতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবও দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অধিকারী হাইতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার চক্র থেকে বেরিয়ে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়।






