চুয়াডাঙ্গায় দেশের প্রথম গ্রিড-সংযুক্ত অ্যাগ্রিভোল্টাইক্স পাইলট প্রকল্প

একই জমিতে ফসল উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ; ৪৯.৬ কিলোওয়াট পিকের প্রকল্পে কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ের সম্ভাবনা যাচাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশের প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত, গ্রিড-সংযুক্ত অ্যাগ্রিভোল্টাইক্স পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ৪৯ দশমিক ৬ কিলোওয়াট পিক ক্ষমতার এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে পরিচ্ছন্ন ও তুলনামূলক কম খরচের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
সম্প্রতি প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এবং জার্মান অংশীদারদের সহযোগিতায় গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন–পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করছে জিআইজেড। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ফ্রাউনহোফার আইএসই। অংশীদার হিসেবে রয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন, আইডিসিওএল ও কেএফডব্লিউ।
অ্যাগ্রিভোল্টাইক্স ব্যবস্থায় কৃষিজমির ওপর নির্দিষ্ট উচ্চতায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়। ফলে একই জমির নিচে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় এবং ওপরের প্যানেল থেকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। চুয়াডাঙ্গার এই পাইলট প্রকল্পে বর্তমানে সবুজ মরিচ চাষ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ও সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সৌরচালিত সেচব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কৃষিতে ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সেচ খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি প্রায় ৫০ একর এলাকার কৃষিকাজে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ নয়, ফসলের ফলন, জমির মাইক্রোক্লাইমেট, কৃষকের আয়-ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকারিতার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কৃষিজমি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আগের গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষি আয় ও সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির আয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে এ ধরনের প্রকল্পের বিনিয়োগ ফেরতের সময় কমে আসতে পারে। তবে ফলনের ওপর সৌর প্যানেলের উচ্চতা, পারস্পরিক দূরত্ব, ছায়ার পরিমাণ এবং চাষ করা ফসলের ধরন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ফলে চুয়াডাঙ্গার পাইলট প্রকল্প থেকে পাওয়া বাস্তব তথ্য ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অ্যাগ্রিভোল্টাইক্স ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পাইলট ধারণা এবং জাতীয় কার্যকরী দল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সৌরচালিত সেচপাম্প এবং ছোট পরিসরে অ্যাগ্রিভোল্টাইক্স ও পশুপালন নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে ও টিম ইউরোপ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটিকে কৃষকবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার সম্ভাব্য মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি এখনো ছোট পরিসরের গবেষণা ও পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। প্রকল্পটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে ফসলের ফলন, কৃষকের অর্থনৈতিক সুবিধা, গ্রিড সংযোগের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের সম্ভাবনার ওপর।







