রাষ্ট্রপতির শপথের প্রস্তুতি শেষ, দরবার হল প্রস্তুত

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল, আমন্ত্রণ পেয়েছেন ১২ শতাধিক অতিথি

টুইট ডেস্ক: নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি দরবার হলে প্রবেশ করবেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।

এর আগে গত ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নয়জন ভোটদানে অনুপস্থিত ছিলেন। ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ কক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়েছিল। এরপর টানা সাতটি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবার দুই প্রার্থী থাকায় দীর্ঘ সময় পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের আয়োজন করা হয়।