বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ মধ্য দিয়ে শুরু হলো পরিবেশ রক্ষার আয়োজন

বান্দরবান প্রতিনিধি: বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে।

গত সোমবার (২০ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে প্রধান অতিথি হিসেবে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতান খান হীরামনি সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও বৃক্ষপ্রেমীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তারা।

স্বাগত বক্তব্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষমেলার মূল লক্ষ্য হলো বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের প্রতি আমাদের আরও যত্নশীল হতে হবে। যে যেখানে পারি, বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে দেশকে সবুজ ও সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অতিথিরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এবারের সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলায় জেলার বিভিন্ন নার্সারি ও ব্যবসায়ী ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের নানা ধরনের চারা নিয়ে অংশ নিয়েছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।