আর্জেন্টিনাই স্পষ্ট ফেবারিট, তবু চমকের আশায় জর্ডান

সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাসে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ৭৮.১ শতাংশ; মেসিকে বিশ্রাম দিলেও আত্মবিশ্বাসী বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

টুইট প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শক্তির বিচারে স্পষ্ট এগিয়ে রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যেই টানা দুই জয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। এখন তাদের লক্ষ্য শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করা। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচেই কোনো গোল না খেয়ে জয়ের কীর্তি গড়ার সুযোগও রয়েছে দলটির সামনে।

গত বুধবার ৩৯তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে তিনি ইতোমধ্যেই ফরাসি কিংবদন্তি জুস্ত ফঁতেন ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে খেলানো হলে টানা সাত ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগও থাকতে পারে।

অন্যদিকে জর্ডানের সামনে অপেক্ষা করছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি।

বিশ্ব ফুটবল ক্রমতালিকায় ৬৮তম স্থানে থাকা দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে।

জর্ডানের প্রধান কোচ জামাল সেল্লামি ম্যাচটিকে বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স জর্ডানের ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

দুই দলের মধ্যে এটিই হবে ইতিহাসের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। দক্ষিণ আমেরিকার দলের বিপক্ষে জর্ডানের অতীত পরিসংখ্যানও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে তারা। দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০০৪ সালে, ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটারও এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৭৮.১ শতাংশ, ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১৩.২ শতাংশ এবং জর্ডানের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৮.৭ শতাংশ।

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। তাই সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে জর্ডান কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।