আনোয়ারায় জোড়া হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তার তেজু বড়ুয়া

অটোরিকশা চুক্তিপত্র ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যার সূত্র খুঁজছে তদন্তকারীরা।

টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি এলাকায় মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা এই আসামিকে রোববার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় এই রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার কিশোরী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। হামলায় গুরুতর আহত হয় এনির পাঁচ বছর বয়সী ছেলে পিয়াস বড়ুয়া, যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া কর্মস্থলে ছিলেন। গভীর রাতে দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয় এবং ছোট ছেলে গুরুতর আহত হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন এবং একটি অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশও সেই বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।

হত্যার পর আনোয়ারা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই প্রধান অভিযুক্ত তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদ ও আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।