কঙ্গোতে ইবোলা আতঙ্ক: আক্রান্ত ৫১৫ মৃত্যু ৯১

কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ বিস্তার: আক্রান্ত ৫১৫, মৃত্যু ৯১; আন্তর্জাতিক জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা। 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-তে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ৫১৫ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।

এটি কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং বর্তমানে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রাদুর্ভাবটি ঘটেছে বুন্দিবুগিও (Bundibugyo) প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের কারণে, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ। মোট আক্রান্তের প্রায় ৯৪ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৮৭টি সংক্রমণ এই প্রদেশে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নর্থ কিভু ও সাউথ কিভু প্রদেশেও রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ২৫টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কঙ্গো সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া-সহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা কেন্দ্র, বিচ্ছিন্নকরণ ইউনিট এবং নজরদারি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকা জুড়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের সমন্বিত প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেশী উগান্ডা-তেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৯ জন আক্রান্ত এবং দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ সংক্রমণের উৎস কঙ্গো থেকে সীমান্ত অতিক্রমকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পূর্ব কঙ্গোর চলমান সশস্ত্র সংঘাত। বিশেষ করে এডিএফ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার কারণে অনেক এলাকায় চিকিৎসাকর্মী ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এতে সংক্রমণ শনাক্তকরণ, রোগী বিচ্ছিন্নকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। WHO-এর মূল্যায়নে কঙ্গোতে ঝুঁকির মাত্রা এখনও “অত্যন্ত উচ্চ” অবস্থায় রয়েছে।