প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের সেই রাত

বাইডেনকে দেখে ‘স্ট্রোক’ আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়েছিলেন জিল।
টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন–কে ঘিরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন জানিয়েছেন, বিতর্ক চলাকালে স্বামীর শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি এতটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে, একপর্যায়ে তার মনে হয়েছিল জো বাইডেন হয়তো ‘স্ট্রোক’ করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জিল বাইডেন বলেন, ওই রাতটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে উৎকণ্ঠাপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তগুলোর একটি। তিনি জানান, বিতর্কের মঞ্চে বাইডেনকে অস্বাভাবিক দুর্বল ও অসংলগ্ন দেখাচ্ছিল।
২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ওই প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর মুখোমুখি হয়েছিলেন জো বাইডেন। তবে পুরো বিতর্কজুড়ে তাকে ক্লান্ত, অন্যমনস্ক ও বিভ্রান্ত দেখা যায়। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বারবার থেমে যান, বাক্য গুলিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘ বিরতি নেন।
বিতর্কের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতর থেকেই বাইডেনের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও হোয়াইট হাউস সে সময় দাবি করেছিল, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণেই তার পারফরম্যান্স দুর্বল হয়েছিল।
তবে প্রায় দুই বছর পর জিল বাইডেনের এই স্বীকারোক্তি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই টেলিভিশন বিতর্কই ছিল বাইডেনের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে বড় ধাক্কা, যা শেষ পর্যন্ত তার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ বদলে দেয়।
ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পরে জো বাইডেন নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান এবং তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হারিস–কে সমর্থন জানান।
এদিকে জিল বাইডেন বর্তমানে তার স্মৃতিকথা ভিউ ফ্রম দ্য ইস্ট উইং প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বইটির প্রচারণা উপলক্ষে দেওয়া সাক্ষাৎকারগুলোতেই তিনি বিতর্কের সেই রাতের অভিজ্ঞতা সামনে আনছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বয়সজনিত ধীরগতি থাকলেও জো বাইডেনকে কখনও স্থায়ী মানসিক অবনতির মধ্যে দেখেননি।






