কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত তজুমদ্দিন

ঝড়ে উড়ে গেছে ঘরের চালা, বন্ধ বিদ্যুৎ; দুর্ভোগে উপকূলবাসী।

টুইট প্রতিবেদক: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল দমকা হাওয়া ও ঝড়ের তাণ্ডবে বসতঘর, মুরগির খামার এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গাছ উপড়ে পড়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রাম। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝড়ের তীব্রতায় একাধিক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং অনেক গাছ ভেঙে পড়ে। এতে যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আড়ালিয়া গ্রামের খামারি আব্দুর রহমান আব্বাসের মুরগির খামার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাশেম মাঝিসহ কয়েকটি পরিবারের বসতঘর দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আব্দুর রহমান আব্বাস জানান, ঝড়ে তার খামারের টিনশেড, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে পরিস্থিতি পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে ৩০ কেজি চাল এবং ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেও অতিরিক্ত সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপকূলীয় এই অঞ্চলে চলতি মৌসুমে কালবৈশাখীর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার বাসিন্দারা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্রুত পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।