ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

কুমিল্লা সফরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, হাম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ।

টুইট ডেস্ক: কুমিল্লায় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো আমাদের পেছনে লেগে আছে।” সোমবার সকালে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কিছু আউটসোর্সিং কর্মী স্বাস্থ্যখাতে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, “ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া আউটসোর্সিংয়ের কিছু লোক গন্ডগোল বাধিয়ে চিকিৎসকদের গায়ে হাত তুলছে।” তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন।

হাম সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আমি যদি ১০ জন মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও হামে সংক্রমণে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তাহলে কি আমি রক্ষা পাবো?” শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কোনো পরিবার যেন সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

গত বছর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ–এ ওষুধ কেনাকাটায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত ও সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার জরুরি সংকট মোকাবিলা এখন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।

এর আগে তিনি কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে রোগীদের অভিযোগ শোনেন, হাসপাতালের খাবারের মান যাচাই করেন এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতের চলমান সংকট, হাম পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক অনিয়ম,সব মিলিয়ে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জনআস্থা পুনর্গঠন এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।