পশ্চিম তীরে দখলদার তাণ্ডব

রাতভর অভিযান, গ্রেপ্তার ও অগ্নিসংযোগে আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা।
টুইট যুদ্ধে: অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ও স্থানীয় সূত্রগুলো এসব কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধনমূলক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। সোমবার বিভিন্ন শহর ও শরণার্থী শিবিরে অভিযান, গ্রেপ্তার, তল্লাশি এবং অগ্নিসংযোগের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আবু নুজাইম গ্রামে সশস্ত্র ইসরাইলি সেটেলাররা চার চাকার বিশেষ যান নিয়ে তাণ্ডব চালায়। গভীর রাতে তারা বিভিন্ন মহল্লায় ঢুকে উচ্চ শব্দে বেপরোয়া গতিতে যান চালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
একই সময়ে বেথলেহেমের পূর্বাঞ্চলীয় জা’আতারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে থুয়াইব পরিবারের একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইসরাইলি সেনারা।
নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাল শহরে অভিযান চালিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুই ফিলিস্তিনি ভাইকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও সেনা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয় বলে জানা গেছে।
জেনিনের দক্ষিণে অবস্থিত ইয়াবাদ শহরে ইসরাইলি বাহিনী বাণিজ্যিক দোকানপাটে তল্লাশি চালায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কাফর কুদ গ্রামে পদাতিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ে।
হেব্রন অঞ্চলেও ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরাইলি সেনারা। সেখানে এক শিশুসহ অন্তত চার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকের আগে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই বাড়িঘরে তল্লাশি চালানো হয় এবং আটক ব্যক্তিদের মারধর করা হয়।
এদিকে হেব্রনের দক্ষিণাঞ্চলের ওয়াদি আল-রাখিম এলাকায় সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা সহায়তায় সশস্ত্র সেটেলাররা ফিলিস্তিনিদের আবাসিক ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় নিক্ষিপ্ত পেট্রলবোমার আগুনে এক বাসিন্দার ভেড়ার খামার ও ঐতিহ্যবাহী চুলা পুড়ে যায়।
অন্যদিকে কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, তুবাসের দক্ষিণে ফার’আ শরণার্থী শিবিরে অভিযান শেষে ফিলিস্তিনি বন্দীদের চোখ ও হাত বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরেও সামরিক চাপ বাড়িয়ে দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর ভয় ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল অব্যাহত রেখেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম তীরে সেটেলার সহিংসতা ও সেনা অভিযানের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে।






