রাস্তার ইট তুলে ইউপি সদস্যের বাড়িতে বাথরুমের অভিযোগ

টাঙ্গাইলে সরকারি সড়কের ইট ব্যবহারের অভিযোগ; তদন্তে নেমেছে প্রশাসন, তিন দিনের আল্টিমেটাম।
টুইট ডেস্ক: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামে সরকারি রাস্তার ইট তুলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার ইট সরিয়ে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণ করেছেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আয়েশা বেগম।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের আওতায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিংয়ের কাজ করা হয়।
গ্রামবাসীর দাবি, প্রকল্পটির সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই এবং কাজের দায়িত্ব পান তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে দিনের বেলায় রাস্তার ইট খুলে ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেই ইট দিয়ে বাথরুম ও পাকা শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে বলা হয়েছিল রাস্তা পাকা করা হবে এবং ইটগুলো খোয়া তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই ইট ব্যক্তিগত স্থাপনায় ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে রাস্তার ইট সরিয়ে নেওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কের মাটি ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ফসল আনা–নেওয়ার একমাত্র পথটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম। তার দাবি, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সড়কটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্পও জমা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঠিকাদার ও ইউপি সদস্যের স্বামী তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেছেন, প্রকল্প শেষে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইট অবশিষ্ট ছিল এবং সেগুলো দিয়েই বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পক্ষকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিজস্ব অর্থে রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের উপকরণ যদি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে জবাবদিহি কোথায়? ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।






