মা হারিয়ে পাহাড়ে শাবকের আর্তনাদ

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্য হাতির মৃত্যু; মায়ের দেহ ছাড়ছে না সাত মাসের শাবক, উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা ও পরিচর্যা নিয়ে
বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কাগজিখোলা এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি মা বন্য হাতির মৃত্যু। মৃত্যুর পরও সাত মাস বয়সী শাবকটি মায়ের নিথর দেহ ছেড়ে যেতে চায়নি। কখনো পাশে ঘুরেছে, কখনো ডাক দিয়েছে, আবার কখনো চিৎকার করে মায়ের সাড়া খোঁজার চেষ্টা করেছে—এমন দৃশ্য স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় হাতিটি কৃষক নুর মোহাম্মদের বাড়ির পাশে পড়ে ছিল। শাবকটি মায়ের পাশে থেকেই অস্থির আচরণ করছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরে মৃত হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে আরও প্রায় ১০টি বন্য হাতির উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ি বনাঞ্চলে খাদ্যসংকট ও প্রাকৃতিক আবাস সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় হাতিটি দুর্বল হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল। ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে।
এদিকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন মা হারানো শাবকটিকে ঘিরে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে শাবকটির টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা বন বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় বনভূমি সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের অভাব এবং হাতির চলাচলের প্রাকৃতিক পথ বা করিডোর নষ্ট হওয়ার কারণে মানুষ–হাতি সংঘাত বাড়ছে। এ সংকট নিরসনে বনাঞ্চলে খাদ্যব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, করিডোর সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি জনপদের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতির সংকট শুধু বন্যপ্রাণীর নয়, সেটি মানুষেরও সংকট। আজ একটি মা হাতি মারা গেছে, শাবকটি মাকে খুঁজছে; আর প্রশ্ন উঠছে, প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায় কতটুকু?






