শান্ত–মুমিনুলে মিরপুর কাঁপাল বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিনেই দাপুটে অবস্থান, সেঞ্চুরিতে উজ্জ্বল অধিনায়ক শান্ত।

টুইট প্রতিবেদক: মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হকের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে দিনশেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলে চালকের আসনে রয়েছে স্বাগতিকরা।

দিনের শুরুতে অবশ্য কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩১ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান।

নতুন বলে পাকিস্তানের পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদি সুইং ও গতিতে শুরুতে ভোগান বাংলাদেশের ব্যাটারদের। তবে সেই ধাক্কা দ্রুত সামলে নেন অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল।

তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১৭০ রানের দুর্দান্ত জুটি। ধৈর্য, শট নির্বাচন ও আত্মবিশ্বাসী মানসিকতায় পাকিস্তানের বোলারদের কার্যত নিষ্প্রভ করে দেন এই দুই ব্যাটার। বিশেষ করে স্পিন ও পেস,দুই বিভাগের বিপক্ষেই ছিল তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

অধিনায়ক শান্ত খেলেন ১০১ রানের ঝলমলে ইনিংস। ১৩০ বলে সাজানো তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা।

কাভার ড্রাইভ, সোজা ব্যাটে খেলা দৃষ্টিনন্দন শট এবং চাপের মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিনি দেখিয়েছেন পরিণত নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের বলেই আউট হলেও দলকে শক্ত ভিত এনে দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থামেন মুমিনুল হক। ২০০ বল মোকাবিলা করে ৯১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসে ছিল ১০টি চার। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ইনিংস গড়ে তোলার পুরোনো দক্ষতারই আরেকটি প্রমাণ রাখলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

দিনের শেষভাগে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। নিজের ১০১তম টেস্টে তিনি ৪৮ রানে অপরাজিত আছেন। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত রয়েছেন লিটন দাস, ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৮ রান।

প্রথম দিনের পুরো ব্যাটিংয়ে ছিল নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ। মিরপুরের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হলেও পাকিস্তানের বোলারদের ধারহীন করে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য থাকবে ইনিংসকে ৫০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।