তুরস্কের কামিকাজে ড্রোনে নতুন মাত্রা, শাহেদের চেয়ে কৌশলগত এগিয়ে

সমন্বিত ঝাঁক হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জিএনএসএসবিহীন সক্ষমতায় এগোচ্ছে আঙ্কারা।
টুইট ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে আত্মঘাতী বা ‘কামিকাজে’ ড্রোন প্রযুক্তি। ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংঘাতে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।
তবে এবার সেই জায়গায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে তুরস্ক।
সাম্প্রতিক সময়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প তিনটি নতুন কামিকাজে ড্রোন উন্মোচন করেছে,কে২, সিভরিসিনেক এবং মিজরাক। এগুলোর প্রত্যেকটির আলাদা সক্ষমতা থাকলেও মূল শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে সমন্বিত বা ঝাঁকভিত্তিক হামলা পরিচালনার সক্ষমতাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত আক্রমণ ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
কে২ ড্রোনটি বড় আকারের এবং প্রায় ২০০ কেজি ওজনের গোলাবারুদ বহনে সক্ষম। এটি জিএনএসএস ছাড়াই ভূখণ্ড বিশ্লেষণ করে নিজস্ব অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে এবং প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম।
একই সঙ্গে এটি আক্রমণ শেষে ফিরে আসার সক্ষমতাও রাখে, যা প্রচলিত কামিকাজে ড্রোনের তুলনায় ভিন্নধর্মী।
অন্যদিকে, সিভরিসিনেক তুলনামূলক ছোট ও স্বল্পমূল্যের ড্রোন, যা এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে এবং ২০ কেজির বেশি ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
কম খরচের কারণে এটি বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ভেদ করার কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিজরাক ড্রোনটি মাঝারি পাল্লার এবং প্রায় ৪০ কেজি পেলোড বহনে সক্ষম। যদিও এর পাল্লা শাহেদ-১৩৬-এর তুলনায় কম, তবুও উন্নত লক্ষ্য নির্ধারণ ও ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ক্ষমতায় এটি এগিয়ে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের শাহেদ ড্রোনগুলো দীর্ঘ পাল্লা ও সহজ ব্যবহারের জন্য কার্যকর হলেও নির্ভুলতা, উন্নত চিত্র বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমন্বিত হামলার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই জায়গাতেই তুরস্ক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে তুর্কি ড্রোনগুলো ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রতিরোধ, স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য নির্ধারণ এবং স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনায় সক্ষম,যা ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে বাড়তে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে কামিকাজে ড্রোন শুধু অস্ত্র নয়, বরং যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে যাচ্ছে।






