উত্তরাখণ্ডে মন্দিরে প্রবেশে নতুন শর্ত, ‘পঞ্চগব্য’

চার ধাম যাত্রা ঘিরে বিতর্ক; ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন?
টুইট ডেস্ক: ভারতের উত্তরাখণ্ডে চার ধাম যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দর্শনার্থীদের জন্য ‘পঞ্চগব্য’ বা গোবর ও মূত্র দিয়ে তৈরি খাবার বাধ্যতামূলক করলো ভারতের মন্দির, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্যের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটি দর্শনার্থীদের জন্য এমন বিধান চালু করেছে, যেখানে মন্দিরে প্রবেশের আগে ‘পঞ্চগব্য’ সেবন করতে হবে। বিশেষ করে অ-হিন্দু দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রেও এই শর্ত সমানভাবে প্রযোজ্য করা হয়েছে।
শর্ত পূরণ না করলে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘পঞ্চগব্য’ মূলত গরুর দুধ, দই, ঘি, গোবর ও গোমূত্রের মিশ্রণ, যার সঙ্গে পবিত্র গঙ্গাজল যুক্ত করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এটি একটি প্রাচীন উপাদান হিসেবে বিবেচিত হলেও আধুনিক প্রেক্ষাপটে এর বাধ্যতামূলক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্দির কমিটির মুখপাত্র পুরুষোত্তম উনিয়াল দাবি করেছেন, সনাতন ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পঞ্চগব্য ছাড়া পূর্ণাঙ্গ আচার সম্পন্ন হয় না।
তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক দর্শনার্থী মন্দিরে আসছেন, যাদের ধর্মীয় অনুরাগ নেই; এই প্রেক্ষাপটে নতুন শর্ত আরোপের মাধ্যমে কেবল ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ব্যক্তিদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের বিধিনিষেধ সংবিধানসম্মত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে এবং এটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় স্থানে প্রবেশাধিকার নিয়ে এমন শর্ত আরোপ সামাজিক বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে।
চার ধাম যাত্রার মতো বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক বা বিচারিক পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।






