ইরানে মার্কিন উদ্ধার অভিযান ঘিরে নতুন উত্তেজনা

ভূপাতিত বিমান উদ্ধারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, ‘ব্যর্থ প্রতারণা’ বলছে ইরান।
টুইট ডেস্ক: ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের বর্ণনায়, গভীর রাতে আকাশজুড়ে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের তীব্র উপস্থিতির পর আকস্মিক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।
শাহরেজা শহরের নিকটবর্তী পারজান গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রোববার মধ্যরাতের পর থেকেই আকাশে একাধিক বিমান চক্কর দিতে থাকে।
কিছুক্ষণ পরই বিকট বিস্ফোরণ এবং টানা গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরদিন সকালে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোড়া ধ্বংসাবশেষে দুটি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং অন্তত দুটি হেলিকপ্টারের চিহ্ন দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত জটিল একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
এ অভিযানে শতাধিক যুদ্ধ ও সহায়ক বিমান অংশ নেয়। তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কিছু উড়োজাহাজ নিরাপদে উড্ডয়ন করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো নিজ উদ্যোগে ধ্বংস করা হয় বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরিবহন বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাঘারি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত উদ্ধার অভিযান আসলে একটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল, যা দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে পরিচালিত হয়।
তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলে এই অভিযান ব্যর্থ করে দেয়।
ঘটনায় একজন ইরানি সেনাসদস্য নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় একটি বেসামরিক যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যদিও যাত্রীরা প্রাণে রক্ষা পান।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বড় ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে এবং এলাকাটি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনাকে ঘিরে তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার দিকে যেতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি করার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।






