বিচারকদের শোকজ করা হল

সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যের অভিযোগে ২৮ জনকে ব্যাখ্যা তলব।
টুইট ডেস্ক: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার অভিযোগে অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে বিচারকদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পৌঁছানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট বিচারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে বিরূপ ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন, যা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত।
এতে আরও বলা হয়, এমন কার্যকলাপের মাধ্যমে তারা উচ্চ আদালতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছেন।
পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিচারক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাদের দাবি, তারা কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করেননি; বরং নিজেদের ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে আলোচনা করেছেন।
বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে বিচারকদের একটি অংশ মনে করছেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন দাবিতে সাম্প্রতিক সক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এই শোকজ জারি করা হয়েছে।
তাদের মতে, সংগঠিত উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে আইন অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নে নতুন বিতর্কের আশঙ্কা করছেন।






