সিলেটে নিরাপত্তা জোরদার

বিশেষ অভিযানে ছিনতাই দমনে অগ্রগতি, সহযোগিতা চায় পুলিশ।
টুইট ডেস্ক: সিলেট মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ।
নগরীকে আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে জনগণ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
মঙ্গলবার নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সাত মাসে সিলেটের নিরাপত্তা সূচক ৫২ থেকে বেড়ে উন্নীত হয়েছে।
একই সময়ে মহানগরগুলোর মধ্যে সিলেটের অপরাধ সূচক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যা নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
পুলিশ জানায়, ছিনতাই প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ২৬৩ জনকে চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় মোট ৩০৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু রমজান মাসেই গ্রেপ্তার হয়েছে ১১২৯ জন।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার বলেন, সাম্প্রতিক আলোচিত কয়েকটি ঘটনার মধ্যে কিছু প্রকৃতপক্ষে ছিনতাই নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত।
যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব ঘটনাকে ‘ছিনতাই’ হিসেবে প্রচার করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করলে অযথা আতঙ্ক কমবে এবং জনমনে আস্থা বাড়বে।
একই সঙ্গে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার সংস্থা নামবিও এর সূচক অনুযায়ী সিলেট বর্তমানে বসবাসের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ নগরীগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, “অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব।”
ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কাজ করছে পুলিশ বলেও জানান তিনি।
পর্যটননির্ভর নগরী হিসেবে সিলেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিরাপদ নগরী গড়তে পুলিশ একা নয়, বরং নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”






