২০ মাস আড়ালে থাকার পর শিরীন শারমিন ডিবি হেফাজতে

শিরীন শারমিন আটক। ২০ মাস আড়ালে থাকার পর রাজধানীতে ডিবি হেফাজতে, হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের ইঙ্গিত।

টুইট ডেস্ক: প্রায় ২০ মাস লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে রাজধানী থেকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

আত্মগোপন থেকে আটক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তিনি সংসদ ভবন এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সরকারি সূত্রগুলো দাবি করে, তিনি নজরদারিতে ছিলেন।

তবে ওই সময় তিনি কোথায় ছিলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা আগে প্রকাশ করা হয়নি।

পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা

২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে স্পিকার পদ থেকে তার পদত্যাগের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় গেজেট প্রকাশ করে পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে বলে জানায়।

তবে সে সময় এটি স্বেচ্ছায় নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতিতে দেওয়া—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ছিল।

মামলা ও আইনি অবস্থান

রংপুরে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আদালতে হাজির করা হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০১৩ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী কয়েকটি সংসদেও একই পদে ছিলেন। শিরীন শারমিন চৌধুরীর আটক বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা।

সাবেক শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকে সবার নজর রয়েছে। ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তিনি নির্দোষ হিসেবে দাবী ক‌রে‌ছেন।