সাংগ্রাই সংকটে বান্দরবান, কমিটি দ্বন্দ্বে উৎসব অনিশ্চিত

কমিটি দ্বন্দ্বে অনিশ্চয়তা, সমঝোতা নেই—সময় ফুরোচ্ছে।
বান্দরবান প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এ ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। প্রতি বছর এ সময়টাতে উৎসবের আমেজে মুখর থাকলেও, এবার কমিটি বিরোধে সেই আনন্দে পড়েছে গভীর ছায়া।
মাত্র সাত দিন বাকি, তবু সমাধানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
ঐতিহাসিক রাজার মাঠ—যেখানে প্রতিবছর মারমা সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব সাংগ্রাই অনুষ্ঠিত হয়—এবার সেই মাঠই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জলকেলি, বুদ্ধমূর্তি স্নান, পিঠা তৈরি ও বয়স্ক পূজাসহ তিন দিনব্যাপী এই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ মার্চ। ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’ প্রথমে সাংগ্রাই আয়োজনের ঘোষণা দেয়। পরদিন ১৯ মার্চ ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’ একই স্থান ও সময়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিতে উভয় পক্ষই বোমাং সার্কেল চিফের শরণাপন্ন হয়। সার্কেল চিফ ‘উৎসব উদযাপন কমিটি’কে অনুমতি দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ‘উৎসব উদযাপন পরিষদ’, ফলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে পরিষদের সভাপতি চনু মং মারমা মাঠে প্রস্তুতি শুরু করলে সন্ধ্যায় কমিটির সভাপতি চথুই ফ্রু সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যও ঘটনাস্থলে যান। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে পতাকা উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
চনু মং মারমা বলেন, উত্তেজনা বাড়লেও তারা সংঘর্ষ এড়াতে সংযম দেখিয়েছেন। তাঁর দাবি, তৃতীয় পক্ষের সমঝোতা প্রস্তাবে তারা রাজি হলেও অপর পক্ষ এখনো আলোচনায় বসতে সম্মত হয়নি।
অন্যদিকে চথুই ফ্রু দাবি করেন, বৈধ অনুমতি তাঁদের কাছেই রয়েছে এবং ৮ এপ্রিল থেকে তাদের আয়োজনে উৎসব শুরু হবে। সব প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
মারমা সমাজের প্রবীণরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে এই বিরোধ দীর্ঘমেয়াদি বিভেদে রূপ নিতে পারে। উৎসব ঘিরে আনন্দের বদলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ—শেষ পর্যন্ত সাংগ্রাই আদৌ উদযাপিত হবে, নাকি দ্বন্দ্বের বলি হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।






