হামলা অবৈধ, হরমুজ বিঘ্নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দায়ী: চীন

বিশ্ব ডেস্ক: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী। তিনি এই হামলাকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিঘ্নের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মাও নিং বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ সামরিক অভিযান।” তিনি আরও জানান, সামরিক উপায়ে সমস্যার মৌলিক সমাধান সম্ভব নয় এবং সংঘাত বৃদ্ধি কারও স্বার্থে নয়। চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে এবং আলোচনায় ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়েছে।
চীন কেন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে
চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ। তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেক আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়, যার বড় অংশ এশিয়ায় যায়। প্রণালি বিঘ্নিত হওয়ায় চীনের জ্বালানি সরবরাহে চাপ পড়েছে, দাম বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা দিয়েছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের নীতি অনুসরণ করে। তারা মনে করে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে চীন নিজেকে শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে বেইজিং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যুদ্ধবিরতি ও প্রণালি পুনরায় খোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশের ওপর প্রভাব
চীনের এই বক্তব্য বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালির বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হয়েছে। মজুত দ্রুত কমছে এবং ফিলিং স্টেশনে সারি দেখা যাচ্ছে। চীন যদি সফল মধ্যস্থতায় প্রণালি খুলতে পারে, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমতে পারে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। ইরানের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষা করতে চায় বেইজিং।
চীনের অবস্থান স্পষ্ট, হামলা অবৈধ, হরমুজের সমস্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দায়ী এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এটি তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশলের অংশ।
বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি আমদানি বৈচিত্র্যকরণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার এখন অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি ও সরকারি সূত্র।






