প্রিন্স সিনমা দেখে আক্ষেপে শাকিব

সময়স্বল্পতা, প্রযুক্তিগত দুর্বলতা,ব্যর্থতার দায় নিলেন নায়ক।
টুইট প্রতিবেদক: ঈদের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স; ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক নিয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ চলচ্চিত্র নায়ক শাকিব খান।
নিজের অভিনীত সিনেমা বিশেষ প্রদর্শনীতে দেখে তিনি প্রকাশ করেছেন আক্ষেপ, একই সঙ্গে জানিয়েছেন দুঃখপ্রকাশও।
রাজধানীর উত্তরায় একটি মাল্টিপ্লেক্সে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে দুই নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও তাসনিয়া ফারিণকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমাটি দেখেন শাকিব।
প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় সিনেমাটিতে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
শাকিব খান জানান, গল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে নির্মাণ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়া থাকলেও ‘প্রিন্স’ সিনেমার ক্ষেত্রে সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিদেশে শুটিংয়ের অনুমতি পেতে বিলম্ব, সেট পরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত ঈদের আগের দিন পর্যন্ত শুটিং চালাতে হয়েছে। এতে করে কাজের গুণগত মানে প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “এই প্রথম ঈদের সিনেমার শুটিং শেষ করেছি ঈদের আগের দিন। সময়ের অভাবে অনেক দৃশ্য তাড়াহুড়ো করে করতে হয়েছে।
কিছু গানও একদিনেই শেষ করতে হয়েছে, যা মানের ওপর প্রভাব ফেলেছে।”
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ঘাটতির কথা স্বীকার করেন তিনি। বিশেষ করে শব্দ, রঙ সম্পাদনা ও দৃশ্যপ্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধতা ছিল বলে জানান শাকিব।
একই সঙ্গে মুক্তির পর প্রথম কয়েক দিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটি প্রদর্শিত না হওয়াকেও বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তিনি।
নায়িকা তাসনিয়া ফারিণও বলেন, সিনেমাটি নিয়ে তার প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি, তবে বাস্তবতায় তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ অবশ্য ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, জটিলতা কাটিয়ে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে এবং মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শন শুরু হওয়ার পর ভালো সাড়া মিলছে।
দর্শকদের একটি অংশ ইতোমধ্যেই পরবর্তী পর্বের প্রত্যাশাও জানিয়েছেন।
১৩৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স’ শুরু থেকেই বড় বাজেট, আন্তর্জাতিক মানের কাজ এবং প্রযুক্তিগত চমক দেখানোর প্রতিশ্রুতির কারণে আলোচনায় ছিল।
তবে মুক্তির পর দর্শকের একটি বড় অংশ প্রত্যাশা অনুযায়ী সিনেমাটি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সবশেষে শাকিব খান ইঙ্গিত দেন, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিত ও মানসম্মত কাজ নিয়ে ফিরবেন তিনি।
এখন দেখার বিষয়, সমালোচনার এই ধাক্কা কাটিয়ে পরবর্তী সিনেমায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন ঢালিউডের এই তারকা।






