ইউএসএস ট্রিপোলি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি

৩৫০০ মার্কিন মেরিন ও নাবিক নিয়ে ভারত মহাসাগর থেকে সেন্টকম অঞ্চলে শক্তি বৃদ্ধি।

বিশ্ব ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস ট্রিপোলি (এলএইচএ-৭) ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এতে করে প্রায় ৩৫০০ মার্কিন মেরিন ও নাবিকসহ ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অঞ্চলে পৌঁছেছে।

এই মোতায়েন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার অংশ।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে, ট্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে জাপানের সাসেবো থেকে যাত্রা শুরু করে ২৭ মার্চ ২০২৬-এ সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করে। এতে করে এফ-৩৫বি স্টেলথ ফাইটার, ওসপ্রে, হেলিকপ্টার ও অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট সক্ষমতাসহ উল্লেখযোগ্য বিমান ও স্থল শক্তি যুক্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীসহ সমুদ্রপথে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই মোতায়েন হয়েছে। ট্রিপোলি একটি ‘মিনি-ক্যারিয়ার’ হিসেবে পরিচিত, যা বিমান উড়ান, মেরিন মোতায়েন ও সমুদ্রভিত্তিক অভিযানে সক্ষম। এটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া, বিমান হামলা ও উপকূলীয় অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, ট্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপে অ্যাম্ফিবিয়াস ট্রান্সপোর্ট ডক জাহাজও রয়েছে। এতে ২২০০ থেকে ৩৫০০ মেরিন ও নাবিক অন্তর্ভুক্ত। এই শক্তি ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবিলায় ‘পিস থ্রু স্ট্রেংথ’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাহাজটির নামকরণ হয়েছে ১৮০৫ সালের প্রথম বার্বারি যুদ্ধের ‘ব্যাটল অব ডার্না’ থেকে। সেই যুদ্ধে মার্কিন মেরিনরা ত্রিপোলির পাশা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় অর্জন করে, যা আমেরিকান জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মেরিনদের জাতীয় সংগীতে ‘শোরস অব ট্রিপোলি’ এই ঘটনার স্মৃতি বহন করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান মোতায়েন ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত। এর আগে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডসহ অন্যান্য শক্তিও অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।

সূত্র: ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সরকারি বিবৃতি, ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট, মিলিটারি টাইমস ও গাল্ফ নিউজ প্রতিবেদন।