দুবাই বন্দরে কুয়েতি তেলবাহী জাহাজে ইরানি হামলা

আগুন নিয়ন্ত্রণে, কোনো হতাহত নয়; তেল ছড়ানোর ঝুঁকি কম!

টুইট প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের নোঙর এলাকায় সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে কুয়েতের বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘আল-সালমি’তে ইরানের সরাসরি হামলা হয়েছে। হামলায় জাহাজের খোল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুবাইয়ের দমকল কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, জাহাজটি পূর্ণ তেলে ভর্তি ছিল। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, যার বাজারমূল্য বর্তমানে ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। হামলার পর তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো তেল লিক হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিক সবাই নিরাপদ।

রয়টার্স, আল জাজিরা ও গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এটি ইরানের চলমান প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরে তেহরানের এমন অভিযান বেড়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়েছে। তবে দুবাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করায় বড় পরিবেশগত বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, গার্ডিয়ান, কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও দুবাই মিডিয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য