ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি, সবচেয়ে বেশি সড়কে

সড়কেই সর্বাধিক মৃত্যু; মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শীর্ষে, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় বাড়ছে ঝুঁকি।

টুইট ডেস্ক: ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথে গত ১৫ দিনে মোট ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’-এ এ চিত্র উঠে এসেছে, যা সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে এনেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১০৪৬ জন আহত হন। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে, যা প্রধান সড়কগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নির্দেশ করে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কাঠামোগত দুর্বলতা উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও পরিবহন খাতে পুরোনো প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে। ঈদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈঠকে যাত্রী বা নাগরিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করাও পরিস্থিতি অবনতির একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় মহাসড়কে রাতের আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা কার্যকর করা।

এদিকে একই সময়ে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর নীতিমালা প্রয়োগ ও কঠোর তদারকি ছাড়া সড়ক নিরাপত্তায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।