দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের সক্ষমতা দাবি ইরানের

সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র এখনো ব্যবহার হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলকে বার্তা তেহরানের
বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাতের শুরুতেই তারা সর্বাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করেনি; প্রয়োজনে আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
ইরানের ইরান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়–এর মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক এক বিবৃতিতে বলেন, “এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতেই আমরা আমাদের সব উন্নত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করি না।”
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি, পাশাপাশি তেলআবিবের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্য কেবল সামরিক সক্ষমতার বার্তা নয়; এটি কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক অবস্থানও।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে “স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা কৌশল” অনুসরণ করছে বলে দাবি করে আসছে, যার আওতায় সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি আঞ্চলিক জোট ও প্রতিরোধ কাঠামো সক্রিয় রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র এখনো ব্যবহার হয়নি” — এ বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান একদিকে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করছে, অন্যদিকে নিজস্ব জনমতকে আশ্বস্ত করছে যে রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অটুট রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব গভীর হতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো না হলে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






