পাকিস্তানের বিমান হামলায় কাঁপল আফগানিস্তান

টিটিপি ক্যাম্পে ‘ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক’ হামলার দাবি পাকিস্তানের — বেসামরিক হতাহতের অভিযোগে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি আফগান তালেবানের
বিশ্ব ডেস্ক: রাতের আঁধারে আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আইএস-ঘনিষ্ঠ সাতটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক’ অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ শিয়া মসজিদ বোমা হামলাসহ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে এসব ঘাঁটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের।
শনিবার রাত ১১টা থেকে রবিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত পাকিস্তান বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালায়।
তবে আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলায় নারী-শিশুসহ ডজনখানেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, নাঙ্গারহারে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলে; ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, এই অভিযানে ২৮ জনের বেশি টিটিপি যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের বক্তব্য, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আফগান তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে বলেন, “বেসামরিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার উপযুক্ত ও পরিমিত জবাব দেওয়া হবে।” আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে বোমা হামলায় ৩০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান টিটিপি ও আইএস-খোরাসানকে দায়ী করে। এর আগে বাজাউর ও বান্নু এলাকায় সেনা কনভয়ে হামলায় একাধিক সেনা নিহত হন। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি হামলা চালাচ্ছে—যা দোহা চুক্তির পরিপন্থী।
অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষ নিহত হওয়ার পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে নতুন করে এই বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে এবং দুই দেশই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়—এই হামলা কি পূর্ণমাত্রার সীমান্ত সংঘাতে রূপ নেবে, নাকি আলোচনার টেবিলে সমাধান খোঁজা হবে।







