এশিয়ান কাপ মিশন শুরু: অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে বাংলার মেয়েরা

প্রথমবার মূল পর্বে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যাত্রা।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে। আগামী ১–২১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য AFC Women’s Asian Cup সামনে রেখে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে সিডনি বিমানবন্দরে অবতরণ করে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের বহনকারী বিমান।

দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দলটি সিডনির ভ্যালেন্টাইন পার্কে ক্যাম্পে ওঠে এবং বিশ্রাম নেয়, যা টুর্নামেন্ট প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাফুফের তথ্য অনুযায়ী, ফুটবলাররা সবাই সুস্থ আছেন এবং সফরের ক্লান্তি কাটিয়ে দ্রুত অনুশীলনে ফিরছেন। এএফসি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিক টিম হোটেলে স্থানান্তর করবে। তার আগে ছয় দিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্যাম্প পরিচালনা করবে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় দলের প্রথম অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা, যেখানে ম্যাচ ফিটনেস, কৌশল ও প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রথমবারের মতো মূল পর্বে খেলতে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৩ মার্চ সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল এর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করবে লাল-সবুজের দল। এরপর ৬ মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী জাতীয় ফুটবল দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৯ মার্চ পার্থে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তান নারী জাতীয় ফুটবল দল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই তিন ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বয়সভিত্তিক সাফল্য ও আঞ্চলিক আধিপত্য বাংলাদেশ নারী ফুটবলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান কতটা শক্ত হয়েছে। কৌশলগত শৃঙ্খলা, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা—এই তিন দিকেই উন্নতি দেখাতে পারলে বাংলাদেশ ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা করতে পারে।

সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই যাত্রা শুধু একটি টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ নয়, বরং নারী ফুটবলের দীর্ঘ পথচলার নতুন অধ্যায়। কঠিন গ্রুপে পড়লেও আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি ও দলীয় সংহতি ধরে রাখতে পারলে ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।