ইরানের মহড়ায় ব্রেন্ট ৭১.৫০ ডলার ছাড়াল, বাংলাদেশেও দাম বাড়ার আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত, জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চে।
বিশ্ব ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়ার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭১.৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ছয় মাসের সর্বোচ্চ স্তর। সপ্তাহজুড়ে দাম বেড়েছে ৫ শতাংশেরও বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ফিউচার ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৭০.৫৯ ডলারে উঠেছিল। শুক্রবার সকালে তা আরও বেড়ে ৭১.৫০ ডলারে স্থির হয়েছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৬৬.৩৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। কোনো ধরনের ব্যাঘাত হলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে প্রণালীটির কিছু অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখেছিল। “নিরাপত্তা সতর্কতা” হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। এরপর বুধবার থেকে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানানো হয়, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিকতা ফিরেছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার ইরান ও রাশিয়া যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে গালফ অব ওমান ও পারস্য উপসাগরের দক্ষিণে। এতে ইরানের আর্টেশ ও আইআরজিসি নৌবাহিনী অংশ নিয়েছে। মহড়ায় জাহাজ হাইজ্যাক মুক্ত করা, সমন্বিত আক্রমণ ও নৌ-নিরাপত্তা অনুশীলন করা হয়েছে। ইরান এটিকে “আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বাধীনতা” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ট্রাম্পের ১০-১৫ দিনের সময়সীমা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য “১০ থেকে ১৫ দিন যথেষ্ট”। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু ঘটবে”। জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে এবং সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম, কারণ ট্রাম্প তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি চান না। কোনো সামরিক পদক্ষেপ হলে তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হবে।” তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তেলের দাম ১৫-২০ শতাংশ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে প্রভাব
বাংলাদেশ পুরোপুরি আমদানিনির্ভর জ্বালানি তেলের বাজারে এই উত্তেজনা সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে খরচ বাড়বে। সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চলছে, তাই স্থানীয় পেট্রোল-ডিজেলের দামও চাপে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি নিবিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বাজার বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ না হলেও যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝড় তুলতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে এখনও বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু পরবর্তী ১০-১৫ দিন গুরুত্বপূর্ণ।
(তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ, দ্য ন্যাশনাল, আল জাজিরা)






