পাকিস্তানে ধারাবাহিক বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধ, অন্তত ১৭ নিহত

টিটিপির দায় স্বীকার, সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ। সরকারের কঠোর বার্তা, অভিযান জোরদার।
টুইট প্রতিবেদক: উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পৃথক তিনটি ঘটনায় বোমা বিস্ফোরণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাজাউর, বান্নু ও শাংলা জেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সাধারণ নাগরিক ও জঙ্গি রয়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাগুলোর পেছনে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জড়িত।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে প্রদেশের সীমান্তবর্তী বাজাউর জেলার মামুন্দ তহসিলের মালাঙ্গি এলাকায়। একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন নিরাপত্তা চৌকিকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। পাশের একটি ভবন ধসে পড়ায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, হামলার পর অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ১২ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, টিটিপি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
একই দিনে বান্নু জেলায় একটি পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথের কাছে পার্ক করা মোটরসাইকেলে রাখা বোমা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরিত করা হয়। এতে দুইজন সাধারণ নাগরিক—যার মধ্যে একটি শিশু রয়েছে—নিহত হন এবং অন্তত ১৭ জন আহত হন। বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। বান্নু দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি তৎপরতার ঝুঁকিতে থাকা একটি জেলা।
অন্যদিকে শাংলা জেলায় পৃথক অভিযানে পুলিশ ও জঙ্গিদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন পুলিশ সদস্য ও তিনজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নিহত জঙ্গিরা পূর্বে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ঘটনাগুলো প্রদেশজুড়ে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের গভীরতা তুলে ধরেছে।
মোট নিহতের সংখ্যা বিভিন্ন সূত্রে ১৭ থেকে ২৪ জনের মধ্যে বলা হচ্ছে। আহতের সংখ্যা ২৫ জনের বেশি। বিস্ফোরণের পর বহু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে রাস্তা বন্ধ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, এবং কিছু পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী উপজাতীয় অঞ্চলে সহিংসতা বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, টিটিপির শীর্ষ নেতারা আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে হামলার পরিকল্পনা করছে। নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই সন্ত্রাসী হামলায় দেশটিতে ২,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার সর্বশেষ এই হামলাগুলো পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।






