নতুন মন্ত্রিসভার শপথ বিকেলে: জল্পনায় নামের তালিকা

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কারা আসছেন, জল্পনা তুঙ্গে। ১৮ মাস পর নির্বাচিত সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
টুইট প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিধস বিজয়ের পর আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মন্ত্রিসভার আকার ও গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার আকার ৪৫ থেকে ৫০ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৫-২৭ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং বাকিরা প্রতিমন্ত্রী বা উপদেষ্টা পর্যায়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ৪৯টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা বড় পরিসরের মন্ত্রিসভারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে প্রাথমিকভাবে ৩০-৩৫ সদস্যের ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করে পরে সম্প্রসারণের কথাও কিছু সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শপথের কয়েক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের ফোন করে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
লাইভ আপডেট ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টনে যেসব নাম আলোচনায় রয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন—তারেক রহমান নিজে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্ব রাখতে পারেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নাম পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এহছানুল হক মিলন-এর নাম নিশ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নজরুল ইসলাম খান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সেতু, কৃষি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সংমিশ্রণ রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞ নেতা ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা হচ্ছে।
যদিও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সহ জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমন্বয় রয়েছে, প্রধান মন্ত্রণালয়গুলোতে বিএনপির নেতাদেরই প্রাধান্য থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিমন্ত্রীর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
শপথ অনুষ্ঠান এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ দেখানো হবে। অনুষ্ঠান শেষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও দায়িত্ব বণ্টন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় নতুন পর্বের সূচনা হতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও নীতি অগ্রাধিকার এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।






