হাতিয়া ইস্যুতে আমজনতা দলের তীব্র প্রতিবাদ

হাতিয়ায় ধ।র্ষণ অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, আমজনতা দলের প্রতিবাদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী এক ধর্ষণ অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিভক্ত প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক দল আমজনতা দল ঘটনাটিকে “সাজানো ও মিথ্যা” দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীর প্রতীক শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জেরে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চানন্দী ইউনিয়নের ধানশিঁড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পে তার ঘরে ঢুকে কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করেন। তিনি দাবি করেন, এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রেখে মারধর করা হয়।
পরদিন বিকেলে তিনি নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মারধর ও সংঘর্ষের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগকে সত্য দাবি করে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। দলটির নেতারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অভিযুক্তদের একজন অভিযোগকে “ষড়যন্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আমজনতা দলের অবস্থান
আমজনতা দল এক বিবৃতিতে বলেছে, “ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা নিন্দনীয়।” দলটি দাবি করেছে, অভিযোগটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। প্রশাসন বলছে, প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






