নমুনা নোটে প্রতারণা: সতর্কবার্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের

আসল টাকার আদলে ‘নমুনা নোট’—দেশবাসীকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

 টুইট প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসল টাকার আদলে বড় আকারের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেসবুক ও ইউটিউবে কিছু অসাধু চক্র আসল নোটের ডিজাইন অনুকরণ করে অবৈধ বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করছে—যা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

‘নমুনা নোট’ ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাজার, জনসমাগম বা বাণিজ্যিক প্রচারণায় আসল টাকার সদৃশ কোনো কাগজ, পোস্টার বা বড় আকারের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী এ ধরনের কার্যকলাপ গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব তথাকথিত ‘নমুনা নোট’ অনেক সময় “কপি”, “স্যাম্পল” বা “প্রমোশনাল” শব্দ যুক্ত করে প্রকাশ করা হলেও ডিজাইন, রং ও বিন্যাসে তা আসল নোটের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হন। বিশেষ করে অনলাইন লেনদেন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

জালিয়াতি এড়াতে সচেতনতার আহ্বান

বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য—যেমন ওয়াটারমার্ক, সিকিউরিটি থ্রেড, ল্যাটেন্ট ইমেজ, মাইক্রোপ্রিন্টিং, রঙ পরিবর্তনশীল কালি ও এমবসড প্রিন্ট—পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আর্থিক তথ্য বা প্রলোভনমূলক অফার বিশ্বাস না করতে এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর জন্য জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এ ধরনের কনটেন্ট অপসারণে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরটিভি নিউজ–এর এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করে। আর্থিক খাতে আস্থা অটুট রাখতে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ‘নমুনা নোট’ কেবল বিভ্রান্তি নয়, সরাসরি আইনি ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই সচেতনতা, যাচাই এবং দ্রুত অভিযোগ জানানো—এই তিন পদক্ষেপেই প্রতারণা প্রতিরোধ সম্ভব বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।